Chora-Kobita লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Chora-Kobita লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সকাল


জীবন নামের সরল অঙ্কের
অনেকখানি চরণ অতিক্রম করার পর বুঝতে পারি-
কয়েক চরণ পূর্বে বন্ধনীর গুরুত্বপূর্ণ যোগফলটি ভুল ছিল
সে ভুলের মাশুল দিতে গেলে আমাকে অঙ্কটি
নতুন করে কষতে হবেকিন্তু সেই সুযোগটুকু
প্রকৃতি তার গঠনতন্ত্রে রাখেনি
তারপরও মাঝে মাঝে ভাবি- অঙ্কটি আমি
আবার নতুন করে কষবোকিন্তু পারি না
বিরূপ বাস্তবতা পিঠ ঘুরিয়ে সামনে গিয়ে দাঁড়ায়
সেই পিঠের সাথে ঠ্যাস লেগে আরো চ্যাপ্টা হয়ে যায়
আমার ভুল অঙ্কের খাতাটা

ভুলের ক্লান্তি নিয়ে নিশিতে যখন চোখের দুটি পাতা এক হয়
নিমিষেই হারিয়ে যাই মসৃণ পথ মাড়িয়ে
সকালে ঘুম ভাঙলেই বুঝি- ওটা স্বপ্ন ছিল
এমনিভাবে অনেক সুখের মুহূর্ত সকালে স্বপ্নে পরিণত হয়

মাঝে মাঝে ভাবি-
আমার এই চলা, বলাটাই যদি একটা স্বপ্ন হতো!
যদি হতো- এই ভুল অঙ্কের খাতাটা আমি
স্বপ্নের মধ্যেই আগলে আছি!
কোনো এক সকালে বুঝবো একটা লম্বা স্বপ্নে হেঁটেছি এতটাক্ষণ
কিন্তু না, সেই সকাল হয় না কখনোই
তবু অজানা আশায় প্রহর গুনি
হয়তো কোনো এক সকালে ঘুম ভাঙবে মায়ের ডাকে-
"তাড়াতাড়ি উঠ, কায়দা নিয়ে পড়তে যা"
মায়ের সেই ডাক আর শোনা হয় না
পারি না জীবনের এ মুহূর্তগুলো স্বপ্নের হাতে সপে দিয়ে
শৈশবের নির্মল বাস্তবে ফিরে যেতে
প্রতিদিনই সকাল হয়, কিন্তু সেই সকাল ভুল অঙ্কের; নির্ভুল শৈশবের নয়
জানি না আমার কাক্ষিত সকাল আদৌ হবে কি-না

কালো


কালো!
আভ্যন্তরীণ নানা বিশেষণ নিয়েই
সে একটি বিশেষ্য,
তার গর্ভ জুড়ে কুসি, বীভ আর
নিরাশার অমারাত্রি

কালো!
একটি ব্যাজ, যার আড়ালে
বিপর্যয়, বিরহ আর শোকের ছায়া

কালো!
ফর্সার কাছে শ্যামের অবহেলা আর
তাচ্ছিল্যের রূপকার

না ...
কালো শুধু কালোই নয়
কারো কারো চোখে আলোর আভা
নিরেট কৃষ্ণবর্ণের মাঝেও কারা যেন
খুঁজে পায় বেঁচে থাকার তাগিদ

ক্ষুধার্ত নিশাচর কেনোইবা খোঁজে
একটু কালো একটু আধারির ফুরসত!


বিনিময়

কিছু দেয়া, কিছু নেয়া
সব কিছুর মাঝে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকে 'বিনিময়'।
জীবনের প্রয়োজনেই সে।
তার সব আয়োজনই জীবনের জন্য, বেঁচে থাকার জন্য।
কিন্তু বিনিময়টাই যদি হয় জীবন
তবে সেই পাওয়াটা কার জন্য?
সে যে-ই হোক
নিশ্চয় সে জীবনের চেয়েও প্রিয়
নইলে রফিক, সালাম কেনোইবা বিনিময় করলো জীবটাকে?

কষ্টের কাছে ঋণী

নিঃসঙ্গ জীবনের মাঝে ইদানিং একটা সঙ্গ অনুভব করি।
যদিও তাকে প্রশ্রয় দিতে চাই না
তারপরও সে আপ্রাণ চেষ্টা করে আমার সাথে ছায়ার মত লেগে থাকতে।
কাউকে অন্ধের মত ভালোবাসলে যেমনটা কেউ করে থাকে।
আমি ওকে যতই দূরে ছুড়ে ফেলতে চাই-
ও চলে আসে আরো কাছে।
মিশে যেতে চায় মনের গভীর থেকে আরো গভীরে,
জানিনা আমার প্রতি ওর এই টান কি করে হলো।

সবাইকে দেখি ভালোবাসে কাছে আসে সুখের মূহুর্তে
আর ওকে আমি বেশি কাছে পাই দুঃখের সময়টাতে।
ওর এই এক তরফা ভালোবাসা দেখে মাঝে মধ্যে ভাবনা জাগে
ওকে বোধহয় আসলেই ভালোবাসা উচিত।
তবুও ওকে ভালোবাসা হয়না।
ওকে মেনে নিতে কেন যেন আমার খুব ভয় করে
তাই ভালোবাসবো বাসবো করে আজও ভালোবাসতে পারিনি-
‘কষ্ট’ নামের এই ভালোবাসার আধারটাকে।
আমার মনের সব দরজা-জানালা আর ফাঁক ফোকর দিয়ে
ও আমার কাছে আসে; পাশে থাকে সব সময়।
প্রিয়দের প্রতি আমার গভীর ভালোবাসা থাকলেও
হয়তো এতটা টান নেই যতটা আমার প্রতি ওর আছে।
ওর মত এমনি করে আর কেউ আমার পাশে থাকেনা,
আমি প্রতিনিয়তই বিমোহিত হচ্ছি ওর নিবীড় ভালোবাসার টানে।

আমি মানুষটা আর যা হই অন্তত কৃতঘ্ন নই
তাই অকপটে কৃতজ্ঞচিত্তে স্বীকার করি-
‘কষ্টে’র এই অসীম ভালোবাসার কাছে আমি চিরঋণী।

(জুন-২০১১)


আদরিণী


(সোনিয়া সাইমুম বন্যা আপুর আদরের কন্যা সিয়ামী মুনতাহা সাবা'র প্রতি শুভকামনায়...)

পান্ডাটারে ঠান্ডা করে
যখন সাবামণি
বানর তখন বাদরামীতে
হয় যে শিরোমণি

দুষ্টু এসব পুতুল একাই
সামলে রাখে সাবা,
ব্যস্ত থাকে আম্মুজী আর
পায়না সময় বাবা

আম্মুজীকে জানায় সাবা
তুমি তো ওর নানী,
নাওনা কোলে কাঁদছে দেখো
ঝরছে চোখে পানি

উনি কি আর দরদ বোঝে
সাবার মত করে,
পাষাণ যেন মনটা উনার
থাকেই দূরে সরে

বাইরে গেলে চিন্তা কী কম
বাবু কাঁদে কিনা!
তাইতো শোনে- সামলে নিতে
পারবিরে কি বীণা?”

বাবু নিয়ে ব্যস্ত সাবা
সাঁঝ বা বিকেল বেলা,
মিছামিছি তাদের নিয়ে
যায় সে শিশুমেলা

সাবা আমায় গান-কবিতা
গল্প শোনায় কতো,
হৃদয় যেন ভরিয়ে দেয়
ঘুমপাড়ানির মতো

আমি তোমার আম্মুজী হই
কয় সে মুঠোফোনে,
বাসায় তুমি আসো না যে
নাই কি আমায় মনে?”

আমি বলি- দাও যদি চুম
বাসায় যাবো তবে”,
সাবামণি সম্মত হয়-
ঠিক আছে তাই হবে 

(রচনাকাল: জুন ২০১০)